ঢাকাSaturday , 18 October 2025
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আবিষ্কার
  6. কৃষি বার্তা
  7. খেলাধুলা
  8. খোলা কলাম
  9. গনমাধ্যাম
  10. চাকরি
  11. জাতীয়
  12. তথ্যপ্রযুক্তি
  13. দৈনন্দিন আইন
  14. ধর্ম
  15. পার্বত্য চট্টগ্রাম
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুকুরে গোসল করা নিয়ে ঝগড়া, আহত ৩০

shahnewajshah
October 18, 2025 8:37 pm
Link Copied!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলায় একটি সাধারণ পুকুরে গোসলের ঘটনা যেন একটি বিস্ফোরক বোমার মতো ফেটে উঠল দুই গ্রামের মধ্যে। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরের একটি ছোট্ট বিরোধ রাতের অন্ধকারে পরিণত হলো এক ভয়াবহ সংঘর্ষে, যেখানে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হয়ে পড়ল ছোট দেওয়ানপাড়া এবং হাওলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা। এই সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর। স্থানীয় প্রশাসন এবং পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও, এলাকায় এখনো চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে। স্থানীয় সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, ঘটনার শুরু হয় শুক্রবার দুপুরে। হাওলাপাড়া গ্রামের যুবক তাইম তার কয়েকজন বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে ছোট দেওয়ানপাড়া গ্রামের একটি পুকুরে গোসল করতে যান। এই পুকুরটি ছোট দেওয়ানপাড়া গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য সাধারণত ব্যবহার হয়, এবং বহিরাগতদের প্রবেশে কড়াকড়ি থাকে। কিন্তু তাইম এবং তার সঙ্গীদের দেখে স্থানীয় যুবক শাকিল এবং শিপনসহ কয়েকজন বাধা দেন। বাদানুবাদ থেকে শুরু হয় হাতাহাতি, এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা মারধরে পরিণত হয়। তাইম এবং তার বন্ধুরা মার খেয়ে ফিরে যান, কিন্তু এই ঘটনা দুই গ্রামের মধ্যে চাপা ক্ষোভের জন্ম দেয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় এমন তুচ্ছ ঘটনা থেকে সংঘর্ষের ঘটনা নতুন নয়। এই অঞ্চলে গ্রামীণ সমাজে পুকুর, জমি বা জলাশয় নিয়ে প্রায়ই বিরোধ দেখা যায়, যা প্রায়শই পুরনো শত্রুতা বা গ্রামীণ রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এই দুই গ্রামের মধ্যে আগেও ছোটখাটো ঝামেলা হয়েছে। পুকুরের ঘটনাটা শুধু একটা অজুহাত মাত্র।” এই ধরনের বিরোধ প্রায়ই স্থানীয় নেতৃত্বের অভাবে বড় আকার ধারণ করে। দুপুরের ঘটনার জের ধরে রাত নামতেই দুই গ্রামের বাসিন্দারা প্রস্তুত হয়ে ওঠে। ছোট দেওয়ানপাড়া এবং হাওলাপাড়া গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র—যেমন টেঁটা, বল্লম, লাঠি, সড়কি এবং এমনকি ইট-পাটকেল—নিয়ে মুখোমুখি হয়। রাতের গাঢ় অন্ধকারে সংঘর্ষ শুরু হয়, এবং যাতে লক্ষ্যভেদ করা যায় সেজন্য উভয় পক্ষ টর্চলাইট জ্বালিয়ে রাখে। এই আলোয় চলে হামলা-পাল্টা হামলা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পুরো এলাকা চিৎকার, চেঁচামেচি এবং অস্ত্রের শব্দে ভরে ওঠে। সংঘর্ষ চলে প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে, সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। এ সময় আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়, রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে—বিশেষ করে নারী এবং শিশুরা ঘরের ভেতর আশ্রয় নেয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “এটা যেন একটা যুদ্ধক্ষেত্র। টর্চের আলোয় লোকজন একে অপরকে আক্রমণ করছে, ইট-পাটকেল উড়ছে চারদিকে। আমরা ভয়ে দরজা-জানালা বন্ধ করে বসে ছিলাম।” এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের লোকজন আহত হয়, যাদের মধ্যে যুবকদের সংখ্যাই বেশি। আহতদের অনেকেই মাথায়, হাত-পায়ে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম পেয়েছেন। সংঘর্ষে আহতের সংখ্যা অন্তত ৩০, তবে স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে এটি আরও বেশি হতে পারে কারণ কেউ কেউ বাড়িতেই চিকিৎসা নিয়েছেন। আহতদের বেশিরভাগই সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন, যখন কয়েকজনকে স্থানীয় ক্লিনিক বা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর, তবে কেউ মারা যায়নি। বেশিরভাগই লাঠি-সড়কির আঘাতে জখম। আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছাড়িয়ে দিয়েছি।” সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোশারফ হোসাইনের নেতৃত্বে পুলিশ এবং প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টার পর তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। ইউএনও মোশারফ হোসাইন বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করেছি। বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে। নতুন করে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সেজন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।” পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, উভয় পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, এবং তদন্ত চলছে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দকে ডেকে শান্তি বজায় রাখার জন্য আলোচনা করা হয়েছে। এই ঘটনা আবারও তুলে ধরেছে বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় তুচ্ছ বিরোধ থেকে বড় সংঘর্ষের প্রবণতা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে শিক্ষার অভাব, স্থানীয় নেতৃত্বের দুর্বলতা এবং পুরনো শত্রুতা। প্রতিরোধের জন্য স্থানীয়ভাবে মধ্যস্থতা কমিটি গঠন এবং সচেতনতা ক্যাম্পেইনের সুপারিশ করা হয়েছে। এই সংঘর্ষের পর এলাকায় শান্তি ফিরেছে, কিন্তু এটি একটি সতর্কবার্তা তুচ্ছ ঘটনা থেকে বড় বিপর্যয় এড়াতে সমাজের সকল স্তরে সচেতনতা দরকার। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।